চরফ্যাশনে লগি-বৈঠার নৃশংসতা ও বিচারের দাবিতে জামায়াতের বিক্ষোভ


  প্রকাশিত হয়েছেঃ   ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ৮:০০ এএম

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর সংঘটিত সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চরফ্যাশন উপজেলা শাখা। বুধবার বিকেলে চরফ্যাশন কেন্দ্রীয় খাসমহল মসজিদের সামনে থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জামায়াত কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। এতেও হামলাকারীরা ক্ষান্ত হয়নি; বরং লাশের ওপর নৃত্য করে গোটা বাংলাদেশকে বিশ্বের সামনে কলঙ্কিত করেছে। তারা বাংলাদেশের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে। তারা রাস্তায় যাঁদের পেয়েছে, তাদের ওপরই হামলা চালিয়েছে।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি কাজী মাওলানা হারুন অর রশিদ।

তিনি অভিযোগ করেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার প্রধান শেখ হাসিনার নির্দেশনায় সন্ত্রাসীরা লগি-বৈঠা নিয়ে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের ওপর নৃশংস হামলা চালায়।

ওই ঘটনায় তাদের ছয়জন নেতাকর্মী নিহত হয়েছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালীন ওই ঘটনার নথিপত্র সরিয়ে ফেলেছিলেন এবং মামলার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করেছিলেন। বর্তমান সরকারের কাছে তিনি ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

সভাপতিত্ব করেন চরফ্যাশন উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মীর শরীফ হোসেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ২৮ অক্টোবরের ঘটনার মাধ্যমে দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল। তিনি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান। সেই সাথে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ আন্দোলনের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশে এখন থেকে আর কোনো চাঁদাবাজি, খুন বা বিভাজনের রাজনীতি চলবে না এবং জনগণকে সাথে নিয়ে জামায়াত সব ধরণের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবে। তারা যে খুনি ও মানবতাবিরোধী অপরাধী, তা ২৮ অক্টোবরের ঘটনাতেই প্রমাণ করেছে। জামায়াত যত দিন আছে, তত দিন জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এসব অন্যায় ও অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। সমাবেশ থেকে বক্তারা ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচার, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানান।

বক্তারা আরও জানান, ২০০৬ সালে জামায়াতের কার্যালয়ে সভা বানচালের জন্য হামলা চালানো হয়েছিল, তবে তৎকালীন আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা মানবপ্রাচীর গড়ে সেই হামলা প্রতিহত করেছিলেন। সমাবেশে জুলাই বিপ্লবের চেতনা বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় কার্যকর করা এবং পূর্বে বাতিল করা অধ্যাদেশগুলো পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়। সেদিন জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা বুক চিতিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছিলেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আবুল কাশেম। এতে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এনামুল হক রায়হান, যুব বিভাগের সভাপতি মাওলানা জহির উদ্দিন এবং ছাত্রশিবিরের পৌর সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অফিস সম্পাদক অধ্যাপক রেজাউল হাসান ইমরান ও অ্যাডভোকেট আবু জাফরসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।