শীতের জ্বালানি সংকট ও দাম বৃদ্ধি নিয়ে বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

ইউক্রেন, ইরান ও ইয়েমেনের চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ইউরোপের ওপর। শীতকালীন মৌসুমকে সামনে রেখে জ্বালানির আকাশচুম্বী দাম ও সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জোটভুক্ত দেশগুলোর জ্বালানিমন্ত্রীরা আজ বৃহস্পতিবার লুক্সেমবার্গে এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন। পরিবহন, টেলিযোগাযোগ ও জ্বালানি কাউন্সিলের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, স্বল্পমেয়াদে জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং এর মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করাই হবে এই বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও সেখানে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এমন সময়েই জ্বালানির মজুত নিয়ে চাপের মুখে পড়েছে জোটটি। কারণ, জ্বালানি পাওয়া গেলেও পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তা কিনতে না পারলে সরবরাহ নিশ্চিত করার সুফল পাওয়া যাবে না।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের জ্বালানিবিষয়ক কমিশনার ড্যান ইয়র্গেনসেন জানিয়েছেন, পুরো জোট বর্তমানে এক অত্যন্ত জটিল ও গুরুতর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
তার মতে, কেবল জ্বালানির মজুত নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়, বরং সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের ক্রয়ক্ষমতার ভেতরে এর দাম ধরে রাখাও বড় চ্যালেঞ্জ। কেননা, বাজারে পর্যাপ্ত জ্বালানি থাকলেও যদি তা সাধারণের নাগালের বাইরে থাকে, তবে প্রকৃত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। এদিকে জ্বালানির উৎপাদন বাড়াতে ইইউর পরিবহন কমিশন এরই মধ্যে ইউরোপের বিভিন্ন তেল শোধনাগারের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। সেখানে উৎপাদন বৃদ্ধিসহ জ্বালানির গুণগত মানদণ্ডের কিছু কারিগরি শর্ত সাময়িকভাবে শিথিল করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উৎপাদন বাড়ানোর সম্ভাব্য পথ নিয়ে এসব আলোচনায় কথা হচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে ইউরোপে জ্বালানির মজুত সক্ষমতা ৭৫ শতাংশ পূর্ণ রয়েছে, যা গত বছরের এই সময়ের তুলনায় কম। গত বছর একই সময়ে এই হার ছিল ৮৩ শতাংশ। এদিকে পাইকারি বাজারে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বুধবার প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টা গ্যাসের দাম সাময়িকভাবে ১০০ ইউরো স্পর্শ করেছে, যা ২০২২ সালের ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চ। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে গ্যাসের দাম এখন ইরান যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। শীতে এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ পরিবার ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইউরোপে শীতকালে ঘরবাড়ি গরম রাখতে জ্বালানির চাহিদা বেড়ে যায়। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের পর এই প্রথম দাম এ পর্যায়ে পৌঁছায়।