বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় লাফ, দুই মাসে সর্বোচ্চ


  প্রকাশিত হয়েছেঃ   ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৫২ এএম

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং সৌদি আরবে হুথিদের ধারাবাহিক হামলার নেতিবাচক প্রভাবে বিশ্ববাজারে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এই অস্থিরতার ফলে এশিয়া ও ইউরোপের বাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম অন্তত ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৬ দশমিক ৭২ ডলার ছাড়িয়েছে। গত সপ্তাহে এই তেলটির দর ৬ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিগত দুই মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক উত্থান। শনিবার রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এটি গত মে মাসের পর সর্বোচ্চ দাম। এতে এশিয়ার পাশাপাশি চাপ বাড়ছে ইউরোপেও।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়ে শুক্রবার প্রতি ব্যারেল ১০৩ ডলার অতিক্রম করেছে। এশিয়ায় সামরিক উত্তজনা আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ও সৌদি আরবে হুথিদের নিয়মিত হামলার ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে, যা মূলত মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। বিশেষ করে সৌদি আরবে হুথিদের বারবার হামলা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

এই উত্তাল পরিস্থিতির মাঝে কিছুটা আশার আলো দেখিয়েছে রাশিয়া।

দেশটির সরকার ও বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সের তথ্যমতে, রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারে পেট্রল ও ডিজেলের উৎপাদন বেড়েছে এবং সেই সাথে জ্বালানির মজুতও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনো বেশ জটিল অবস্থায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান বিওকে ফাইন্যানশিয়াল সিকিউরিটিজের ট্রেডিং বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেনিস কিসলার সতর্ক করে বলেছেন, সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ইরানে আরও বড় ধরনের হামলার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাজারে এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে দীর্ঘ মেয়াদে তেলের দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।