বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব বাড়াবে জাপান: সানায়ে তাকাইচি


  প্রকাশিত হয়েছেঃ   ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫০ পিএম

কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার এবং অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। মঙ্গলবার নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেয়া এক পোস্টে এই অঙ্গীকার করেন তিনি। এর আগে সকালে টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কানতেই’-এ সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষীয় বৈঠক করেন তাকাইচি। বৈঠকের পর নিজের পোস্টে তাকাইচি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানাতে পেরে তিনি আনন্দিত। তিনি উল্লেখ করেন, গণতান্ত্রিক সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা তারেক রহমান সরকারের রাষ্ট্রগঠন প্রচেষ্টায় জাপান জোরালো সমর্থন দেবে।

‘বিগ-বি’ উদ্যোগ ও দ্বিপাক্ষীয় সহযোগিতা

তাকাইচি জানান, দুই দেশ দ্বিপাক্ষীয় সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয়কে যৌথ সমৃদ্ধির জন্য ‘বিগ-বি’ নামে একটি নতুন কৌশলগত উদ্যোগে উন্নীত করতে সম্মত হয়েছে। তিনি বলেন, তারেক রহমান শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে জাপানের ভূমিকা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জাপানের প্রাথমিক স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি স্মরণ করেছেন। বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের বিশেষ স্থান রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী কৌশলগত অবস্থান এবং ১৭ কোটি মানুষের বিশাল বাজারের কারণে জাপানের অর্থনীতির জন্য বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিন্ন মূল্যবোধ এবং একটি অবাধ ও উন্মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল (এফওআইপি) প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও তিনি তথ্য দেন।

যৌথ ঘোষণা ও বিনিয়োগ পরিকল্পনা

  • দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে উন্নীত করতে ‘অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বিগ-বি’ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া হবে।
  • এই উদ্যোগের আওতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তির অবকাঠামো উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে।
  • এর মাধ্যমে শিল্পের মূল্য সংযোজন ও সরবরাহব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র গড়ে তোলা এবং বাণিজ্য ও পণ্য সরবরাহের প্রবেশদ্বার হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলা হবে।
  • যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানো এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
  • জাপানের বেসরকারি খাত আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ করতে পারে বলে যৌথ ঘোষণায় জানানো হয়েছে, যা বাংলাদেশে দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে।

বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে কৌশলগত অংশীদারত্বের আওতায় সরকারি ও বেসরকারি খাতের উদ্যোগের মাধ্যমে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়টি পুনরুল্লেখ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সানায়ে তাকাইচি একমত পোষণ করেন যে, এই সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশ ভবিষ্যতে আরও সমৃদ্ধ হবে। এছাড়াও দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো এবং জ্বালানি নিরাপত্তায় সহযোগিতা বৃদ্ধির দৃঢ় অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়। শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়টিতেও দুই রাষ্ট্রপ্রধান গুরুত্বারোপ করেন। যৌথ ঘোষণার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।