রূপনগর থানার ওসির বিরুদ্ধে মাসিক চাঁদা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ   ৩ মার্চ ২০২৬, ৯:১৭ পিএম

রাজধানীর রূপনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনজুরুল আহসান মাসুদের বিরুদ্ধে মাসিক চাঁদা আদায়ের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, গ্যারেজ মালিক ও বস্তিবাসীদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে অর্থ নেওয়ার একটি অনানুষ্ঠানিক তালিকা ঘুরে বেড়াচ্ছে এলাকায়, যা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ইস্টার্ন হাউজিং থেকে রুস্তমপুর পর্যন্ত বেড়িবাঁধের দুই পাশের অবৈধ তেলের দোকানগুলো থেকে  মাসিক প্রায় ৪০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। নির্দিষ্ট ব্যক্তির মাধ্যমে এই টাকা সংগ্রহ করে থানায় পৌঁছানো হয়।

দুয়ারীপাড়া ফুটপাত বাজার থেকে ফয়েজ নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। রূপনগর আবাসিক বস্তিতে অবৈধ গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে ইউসুফ মাদবরের মাধ্যমে মাসে ২০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
৬ নম্বর টি-ব্লকে অবৈধ গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে হারুন নামের ব্যক্তির মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা এবং আরামবাগ বস্তি থেকে বিএনপি নেতা হাবিবের মাধ্যমে মাসে ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।

রূপনগর থানা এলাকায় রাস্তায় ভাসমান অকটেন ও পেট্রোল বিক্রির প্রতিটি দোকান থেকে মাসিক ৩ হাজার টাকা করে আদায় করা হয় বলে অভিযোগ।
এছাড়া এলাকায় প্রায় ২০০-২৫০টি অটোরিকশা গ্যারেজ রয়েছে। প্রতিটি গ্যারেজ থেকে মাসিক ৫ হাজার টাকা করে নেওয়া হয় বলে গ্যারেজ মালিকদের অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, কারও জমি বা বাড়ি সংক্রান্ত বিরোধ দেখা দিলে উভয় পক্ষকেই থানায় ডেকে বিপুল অংকের টাকা নেওয়া হয়। ওসির কক্ষে জমি ও নগদ অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত মহামান্য হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা ওসির রুমে ঝুলানো থাকলেও তিনি তা উপেক্ষা করে এসব বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছেন বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেন।
দুয়ারীপাড়া এলাকায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বরাদ্দকৃত প্লট মালিকদের বাড়ির নির্মাণকাজ বন্ধ করতে পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে মাইকিং করানোর অভিযোগও উঠেছে।

থানায় সাধারণ মানুষ গেলে তিনি বলেন আমি বডিবিল্ডার মাসুদ কমিশনার আমাকে ভালো করে চিনে , কমিশনার” পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন—এমন অভিযোগও রয়েছে। এতে অনেকেই থানায় যেতে সাহস পান না বলে জানান ভুক্তভোগীরা।

উল্লেখ্য খুলনা রেঞ্জে পিবিআইতে থাকাকালীন সময়ে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলায় তিনি কারাভোগ করেছিলেন।  তবুও এমন অতীত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তিনি ডিএমপির মতো গুরুত্বপূর্ণ থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন—এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে ওসি মনজুরুল আহসান মাসুদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,  তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

পরবর্তী প্রতিবেদনে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।