ফ্রান্সে বিক্ষোভ ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সেনা মোতায়েনের ঘোষণা

ফ্রান্সে আগামী শনিবার ২৪ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে গুরুত্বপূর্ণ সব স্থাপনার নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। গত ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভের সময় সংঘটিত সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা মোকাবিলায় প্রশাসন এই কঠোর নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার এই ঘোষণা দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, সেনাবাহিনীর বিশেষ ‘সেনতিনেল’ ইউনিটের সদস্যদের মূলত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর সুরক্ষায় মোতায়েন করা হবে। এর ফলে পুলিশ ও জেন্ডারমারি বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ এবং সহিংসতা মোকাবিলায় আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ পাবেন। ২০১৫ সালে শুরু হওয়া সেনতিনেল অভিযানের অংশ হিসেবেই এই সদস্যদের মোতায়েন করা হচ্ছে, যাদের কাজ মূলত জননিরাপত্তা রক্ষা করা। এছাড়া নিরাপত্তা অভিযানে পুলিশের বিশেষ ইউনিট, জেন্ডারমারির বিশেষ বাহিনী, সাঁজোয়া যান, জলকামান ও হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে টিএফ১ ইনফোর প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে। সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সংবেদনশীল এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এই অভিযানের অন্যতম দায়িত্ব। এর ফলে পুলিশ ও জেন্ডারমেরির সদস্যদের জনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত করা সম্ভব হবে।
রয়টার্স ও এএফপির তথ্যমতে, ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের সমন্বয়ক দল এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন শনিবার প্যারিসের বাস্তিল থেকে অপেরা পর্যন্ত মিছিলের পরিকল্পনা করেছে। আন্দোলনকারীদের মূল দাবির মধ্যে রয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা ও সরকারি পরিষেবার উন্নয়ন। গত সপ্তাহের বিক্ষোভে সহিংসতার ঘটনা এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বর্তমানে ফ্রান্সে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। এ পরিস্থিতির দায় স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু জানান, আগের বিক্ষোভ সামলানোর ক্ষেত্রে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘাটতি ছিল। শনিবারের বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠী ও শিক্ষার্থীদের সংগঠনগুলো। তবে কর্মসূচিতে কতজন অংশ নেবেন এবং প্যারিসের বাইরে কতগুলো শহরে বড় জমায়েত হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। শিক্ষার্থীদের সংগঠনগুলোও একই দিনে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোসহ বিভিন্ন দাবিতে কর্মসূচির ডাক দিয়েছে।
বিক্ষোভের আয়োজকেরা প্রশাসনের কাছে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেও, এর বিস্তৃতি ও অংশগ্রহণের বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্থানীয় প্রশাসনকে পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ বা কারফিউ জারি করার বিষয়টিও বিবেচনার মধ্যে রয়েছে। তবে এই উদ্যোগের মানে এই নয় যে দেশজুড়ে সব ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ বা জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
সেনাবাহিনী মোতায়েনের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হলেও, সরকার স্পষ্ট করেছে যে সেনতিনেল বাহিনী কেবল স্থাপনার সুরক্ষায় থাকবে, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো অভিযান তাদের নির্দেশনায় নেই। এদিকে, ফ্রান্সে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা, বিধিনিষেধ ও গণপরিবহন সংক্রান্ত ঘোষণার দিকে সতর্ক নজর রাখতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় জমায়েত বা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে, সেখানে কর্তৃপক্ষের নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। রয়টার্সের ২০ ও ২১ অক্টোবরের প্রতিবেদন এবং এএফপির বরাতে ইউরোনিউজের প্রকাশিত সংবাদেও সেনা মোতায়েনের এই পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। তবে অতিরিক্ত কতজন সেনা সদস্য মোতায়েন হবেন, তার নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।