মধ্যপ্রাচ্য থেকে গোপনে সেনা ও কূটনৈতিক কর্মী সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র


  প্রকাশিত হয়েছেঃ   ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৩৮ এএম

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি থেকে নীরবে সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে অঞ্চলটিতে অবস্থিত কয়েকটি কূটনৈতিক মিশন থেকে কর্মীদের চলে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে ওয়াশিংটন। ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই কৌশলগত স্থানান্তর করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর প্রথম দফায় হামলার আগে পেন্টাগন ও পররাষ্ট্র দপ্তর একইভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিল। জর্ডান, কাতার ও কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদেরও সরিয়ে অন্যত্র নেওয়া হচ্ছে বলে এনবিসির প্রতিবেদনে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিশ্চিত করেছেন। তবে আকাশ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার স্বার্থে সীমিত সংখ্যক সেনাকে ঘাঁটিতে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার রুশ গণমাধ্যম আরটি এ খবর জানায়। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যরা সেখানে থাকবেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলার প্রাক্কালে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ ঘাঁটিগুলো থেকে বিপুল সংখ্যক সেনাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তখন তেহরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, ওয়াশিংটন উপসাগরীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের ‘মানবঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করছে। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিমোথি হকিন্স সেনাদের স্থানান্তরের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি শুধু বলেন, সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি বাড়াতে ও সক্ষমতা যাচাইয়ে নিয়মিত বিরতিতে সেনাদের অবস্থান পুনর্বিন্যাস করা হয়ে থাকে। এ বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে সংবাদ প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থাটি।

এদিকে ইয়েমেনের হুথি আন্দোলনকারীদের হামলা বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরব থেকে অপ্রয়োজনীয় কূটনৈতিক কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। বেসামরিক বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে হুথিদের বিরুদ্ধে। এছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশ থেকেও কূটনৈতিক কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর এসেছে, যদিও পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এ ধরনের প্রতিবেদনকে ‘ভুল’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

ইরানে হামলার ক্ষেত্রে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে বেশ কয়েকটি পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ভূগর্ভস্থ আস্তানা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপগুলোতে হামলার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশেষ করে তেল রপ্তানির কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ এবং হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত কেশম দ্বীপের নাম আলোচনায় এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক উপদেষ্টাদের একটি অংশ ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে সামরিক অভিযানের পক্ষে থাকলেও, অনেকেই আবার নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ না করে বড় ধরনের সংঘাত শুরুর বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ সোমবার ইসরাইলে আকস্মিক সফর করেন এবং প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন।

উল্লেখ্য, আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তারা ইরানে কোনো হামলা চালাবেন না। মার্কিন সেনা ও স্বার্থ রক্ষায় তারা প্রস্তুত রয়েছেন। ইসরাইলের ২৭ অক্টোবরের পার্লামেন্ট নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে তাদের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।