মূল্যস্ফীতির দায় ট্রাম্পের ওপর চাপালেন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার


  প্রকাশিত হয়েছেঃ   ৫ নভেম্বর ২০২৬, ১:৩১ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মূল্যস্ফীতির ইস্যুতে বড় ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কা খেয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে নির্বাচনি ফলাফলে। এতে প্রতিনিধি পরিষদ, সিনেট ও বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) ভোটকাস্ট জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় এক লাখ ভোটারের বেশিরভাগই মনে করেন, ট্রাম্পের নীতিই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।

মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান ও তুলনামূলক চিত্র

  • গত ১২ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) বেড়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। অথচ ট্রাম্প যখন তার দ্বিতীয় মেয়াদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৩ শতাংশ।
  • এপি ভোটকাস্টের জরিপ অনুযায়ী, এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার মনে করেন, ট্রাম্পের নীতির কারণেই মূল্যস্ফীতি বেড়েছে।
  • বিপরীতে, ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরিচালিত একই ধরনের জরিপে প্রায় অর্ধেক ভোটার বাইডেনের নীতিকে মূল্যস্ফীতির জন্য দায়ী করেছিলেন।

জীবনযাত্রার ব্যয় ও নির্বাচনি প্রভাব

মূল্যস্ফীতির জন্য তার পূর্বসূরি ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে দায়ী করে ট্রাম্প যে বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন, তা ভোটারদের মধ্যে কোনো গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। জরিপে আরও উঠে এসেছে, এবারের নির্বাচনে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ভোটারদের প্রায় ৯০ শতাংশের কাছে জীবনযাত্রার ব্যয় ছিল ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ কিংবা ‘বড় ধরনের বিবেচ্য বিষয়’। আর এই ভোটারদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েছেন। নিত্যপণ্যের এই আকাশচুম্বী মূল্য সাধারণ ভোটারের মনস্তত্ত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে, যা রিপাবলিকানদের নির্বাচনি বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।