সৌদির সামরিক ঘাঁটি ও বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিরা সৌদি আরবের ভূখণ্ডের গভীরে তিনটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর দাবি করেছে। এসব হামলায় কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে জানানো হয়। হুতিদের দাবি, ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলা ও রাজধানী সানাসহ বিভিন্ন স্থানে বেসামরিক নাগরিক হতাহতের ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে এই পাল্টা আক্রমণ করা হয়েছে। এসব হামলা নিখুঁত ও সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে বলেও দাবি করা হয়েছে বিবৃতিতে।
বিবৃতি অনুযায়ী, প্রথম অভিযানটি চালানো হয়েছে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে খামিস মুশাইতের কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে আঘাত হানা হয়। হুতি বাহিনীর দাবি, সেখানে ড্রোন নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র, উড়োজাহাজের হ্যাঙ্গার ও গোলাবারুদের গুদামসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিখুঁতভাবে আঘাত করা হয়েছে। তৃতীয় অভিযানটি চালানো হয় জিজান এলাকায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দক্ষিণাঞ্চলীয় নৌঘাঁটিতে। এই হামলায় সৌদি বাহিনীর কয়েকজন সেনা ও কর্মকর্তা হতাহত হয়েছেন বলে হুতিরা দাবি করেছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে হুতি বাহিনী রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরকে অনিরাপদ ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা ও যাত্রীদের ওই বিমানবন্দর ব্যবহারে সতর্ক করেছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের আকাশসীমা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে মক্কা ও মদিনার আকাশসীমাকে এই সতর্কতার বাইরে রাখা হয়েছে। ইয়েমেনে হামলা ও অবরোধ বন্ধ না করা পর্যন্ত সৌদি ভূখণ্ডের গভীরে এমন অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে হুতিরা। এছাড়া নারী ও শিশু হত্যার জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা। এদিন বিবৃতিতে হুতি বাহিনী জানায়, দেশ ও জনগণকে রক্ষায় তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।