হরমুজের কাছে সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া

হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী অঞ্চলে নিজেদের নৌবাহিনীর জলদস্যু প্রতিরোধী ইউনিটের কার্যপরিধি ও সক্ষমতা বাড়ানোর জোরালো পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে। এর আওতায় ওমানের দুকম বন্দরের দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত এই ইউনিটের কার্যক্রমের এলাকা সম্প্রসারিত করা হবে, যা হরমুজ প্রণালি থেকে প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার বা ৪০৩ দশমিক ৮ মাইল দূরত্বে অবস্থিত।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে সোমালিয়ার উপকূলে মোতায়েন থাকা ‘চেওংহে’ ইউনিটে আরও ৭৫ জন নতুন সদস্য যুক্ত করা হবে। এর ফলে ইউনিটটির মোট সদস্যসংখ্যা ৩৯৫ জনে উন্নীত হবে। এছাড়া এই বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে পি-৮এ পোসেইডন সামুদ্রিক টহল বিমান, সমুদ্রের মাইন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার উন্নত চালকবিহীন সরঞ্জাম এবং বিস্ফোরক অপসারণে দক্ষ বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর পরিকল্পনাও করা হয়েছে। ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চেওংহে নামের জলদস্যুবিরোধী ইউনিটে আরও ৭৫ জন সদস্য যুক্ত করা হবে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কেবিএসের তথ্যমতে, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গত কয়েক মাস ধরে সিউল সেখানে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়টি পর্যালোচনা করছিল। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং শুরু থেকেই স্পষ্ট করেছেন যে, কোনোভাবেই কোনো দেশের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানোর মতো সামরিক পদক্ষেপ নেবে না তার দেশ। এর ফলে সেখানে সরাসরি যুদ্ধ বা সংঘাতমূলক কোনো অভিযানে সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা নাকচ করা হয়েছে। এমন কোনো সামরিক পদক্ষেপও নেওয়া হবে না, যাতে দক্ষিণ কোরিয়া অন্য কোনো দেশের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি।
ইউনিটটি মূলত এডেন উপসাগরে জলদস্যু দমনের পাশাপাশি বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তার দায়িত্ব পালন করে।
এই সম্প্রসারণ পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের আগে মন্ত্রিসভার পর্যালোচনা এবং রাষ্ট্রপতির চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। পরবর্তী ধাপে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবটি জাতীয় পরিষদে পাঠানোর কথা রয়েছে। প্রতি বছর পার্লামেন্টের অনুমোদনের ভিত্তিতেই এই ইউনিটের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে। নতুন এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ওই অঞ্চলে নিজেদের নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ানো ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।