দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে ২০ সমঝোতা সই পাকিস্তান-মালদ্বীপের

পাকিস্তান ও মালদ্বীপ বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে সম্মত হয়েছে। বুধবার ইসলামাবাদে আয়োজিত এক বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে মোট ২০টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জুর উপস্থিতিতে এসব চুক্তি সম্পন্ন হয়, যার মধ্যে কৃষি, মৎস্য, তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, শিক্ষা, পর্যটন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং মাদক চোরাচালান প্রতিরোধের মতো খাতগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী এক পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি জানিয়েছেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য বর্তমানের এক কোটি ৩৯ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২০ কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, পরিবেশ রক্ষায় মালদ্বীপের ৫০ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পাকিস্তান দেশটিকে এক লাখ জলপাই গাছের চারা ও বিভিন্ন প্রজাতির এক লাখ বীজ উপহার দেবে।
সফররত মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর বিষয়ে আলোচনার অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। তিনি সার্ককে (SAARC) পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে মালদ্বীপের সক্রিয় ভূমিকা রাখার বিষয়টি পুনরায় নিশ্চিত করেছেন। মুইজ্জুর এই রাষ্ট্রীয় সফরটি কূটনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ প্রায় ১১ বছর পর মালদ্বীপের কোনো প্রেসিডেন্ট পাকিস্তান সফর করলেন।
১৯৬৬ সালে পাকিস্তান ও মালদ্বীপের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল, যা বর্তমানে ৬০ বছর পূর্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিন দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরের সময় আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জুকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করেছে। দুই দেশের এই নতুন চুক্তিগুলো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিতকে আরও মজবুত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। দুই দেশ ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত কূটনৈতিক সম্পর্কের ৬০ বছর পূর্তি উদ্যাপন করছে।