রূপগঞ্জে বালু নদের সেতুর নির্মাণকাজ ২৩ বছরেও শেষ হয়নি


  প্রকাশিত হয়েছেঃ   ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৫০ এএম

ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজট সমস্যা সমাধানে রূপগঞ্জের বালু নদের ওপর একটি সেতুর পরিকল্পনা করা হয়েছিল প্রায় দুই যুগ আগে। তবে নানা জটিলতায় ২০০৩ সালে শুরু হওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ সেতুটির নির্মাণকাজ দীর্ঘ ২৩ বছরেও সম্পন্ন হয়নি। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দাবিতে এলাকাবাসী বিভিন্ন সময় মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালন করলেও দীর্ঘ এই সময়ে কাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি।

প্রকল্পটির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০০১ সালে তৎকালীন সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০০৩ সালে বালু নদের ওপর ৭৫ দশমিক ৩০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। শুরুতে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের অধীনে এই প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা। মেসার্স ইস্টার্ন ট্রেডার্স লিমিটেড নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি এই কাজের দায়িত্ব পায় এবং এক বছরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার কথা ছিল। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তথ্যমতে, ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে মাত্র ৫০ লাখ টাকা উত্তোলনের পর আর কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় একপর্যায়ে কাজ পুরোপুরি থমকে যায়। সিডিউল অনুযায়ী সিমেন্ট, রড, বালু, পাথরসহ নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় একপর্যায়ে নির্মাণকাজে স্থবিরতা নেমে আসে।

দীর্ঘ স্থবিরতার পর ২০২১ সালে প্রকল্পটি পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে দ্বিতীয় দফায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। এবারের নতুন বাজেটে প্রায় ১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় এবং মেসার্স ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স ও মেসার্স সরদার এন্টারপ্রাইজ যৌথভাবে কাজটির দায়িত্ব পায়। চুক্তি অনুযায়ী ২০২১ সালের মে মাসে কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তা আর আলোর মুখ দেখেনি। সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর দুটি পিয়ার, কলাম, ক্যাপ এবং এক পাশের উইংওয়াল ও এবার্টমেন্ট দাঁড়িয়ে থাকলেও সংযোগ সড়কের অবস্থা বেহাল। দীর্ঘ সময় পড়ে থাকায় রডগুলোতে মরিচা ধরে তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অজ্ঞাত কারণে দ্বিতীয় দফায় সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়।

বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদেও আলোচনা হয়েছে। গত ১৬ এপ্রিল রূপগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু সংসদে দাবি জানান যে, ২০০১ সালের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রকল্পটি দ্রুত শেষ করা জরুরি। তিনি জানান, একটি মাত্র সেতুর অভাবে রূপগঞ্জসহ আশপাশের লাখো মানুষকে ১২ থেকে ১৩ কিলোমিটার পথ ঘুরে ঢাকায় যাতায়াত করতে হয়। বর্তমান সরকার এই সেতুটি নিয়ে নতুন উদ্যমে পরিকল্পনার কথা বলছে। নারায়ণগঞ্জের সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিম জানিয়েছেন, কায়েতপাড়া-নগরপাড়া এলাকার এই সেতুর গুরুত্ব অপরিসীম এবং সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে শিগগিরই নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জানা গেছে, ২০০৩ সালে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া-নগরপাড়া এলাকার বালু নদে বহু প্রত্যাশিত বালু সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ১৬ এপ্রিল জাতীয় সংসদে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু বলেন, ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিশ্রুতিতে দরপত্রের মাধ্যমে ২০০৩ সালে বালু নদের সেতু নির্মাণকাজ শুরু হয়। সেতুটিকে ঘিরে লাখো মানুষ বুকভরা আশা আর স্বপ্ন নিয়ে আছেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন বারবার ভেঙে যাচ্ছে।

চলতি বছরের ২৭ মার্চ সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ প্রকল্পের সর্বশেষ পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, ঢাকার পূর্ব মাদারটেক ও সবুজবাগ হয়ে এই সেতুটি চালু হলে সিলেট ও চট্টগ্রামগামী যানবাহন খুব সহজে যাতায়াত করতে পারবে। এর ফলে রাজধানী ঢাকার যানজট অনেকটাই কমে আসবে। সরকারের পক্ষ থেকে এই জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি দ্রুত সমাপ্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসীর বহু কাঙ্ক্ষিত এই সেতুটি কবে নাগাদ চলাচলের উপযোগী হবে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় স্থানীয়রা। বালু সেতু নির্মাণ হলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার সেতুবন্ধন তৈরি হতো।