ইমরান খানসহ দেড় হাজার বন্দিকে নতুন কারাগারে স্থানান্তরের পরিকল্পনা


  প্রকাশিত হয়েছেঃ   ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১০ এএম

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের সেক্টর এইচ-১৬ এলাকায় ৯০ একর জমির ওপর নির্মিত অত্যাধুনিক মডেল কারাগারের প্রথম পর্যায়ের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে।

চলতি বছরের ১ থেকে ১০ নভেম্বরের মধ্যে কারাগারটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। এই পর্যায়ে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে প্রায় দেড় হাজার বন্দিকে নতুন এই কারাগারে স্থানান্তর করা হবে। শুরুতে দুই হাজার বন্দি সরানোর পরিকল্পনা থাকলেও পরবর্তীতে তা কমিয়ে দেড় হাজারে নামিয়ে আনা হয়েছে। তবে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের এই দফায় স্থানান্তর করা হবে না, শুধুমাত্র আদালতে বিচারাধীন আসামিদেরই এখানে আনা হবে।

কারা সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে আগামী ২০ থেকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে আদিয়ালা কারাগার থেকে এই নতুন কারাগারে স্থানান্তর করা হতে পারে। তাঁর জন্য কারাগারটিতে একটি বিশেষ ওয়ার্ড প্রস্তুত করা হয়েছে, যেখানে সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা স্থাপনের কাজও প্রায় শেষের পথে। আদিয়ালা কারাগার কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে ইসলামাবাদের বাসিন্দা ও বিচারাধীন বন্দিদের একটি চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করেছে।

প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ে তিনটি ব্যারাক, ৩৫ শয্যার হাসপাতাল, মসজিদ এবং রান্নাঘরের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হয়েছে। এছাড়া খেলাধুলার মাঠ, লাইব্রেরি, ইমামবাড়া, গির্জা এবং নারী ও শিশুদের জন্য পৃথক ওয়ার্ডসহ আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি নতুন এই কারাগার পরিদর্শন করে নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সমস্ত কাজ সম্পন্ন করার তাগিদ দিয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, এই প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ৩৫০ কোটি পাকিস্তানি রুপি ধরা হলেও নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধিসহ নানা কারণে চার বছরে তা ২ হাজার কোটি রুপি ছাড়িয়েছে। প্রকল্পের পরবর্তী ধাপের কাজ ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ২০২৭ সালেই সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। একই সঙ্গে আগামী ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের স্থানান্তরের একটি সম্ভাব্য সময়কালও নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে চার বছরে ব্যয় ২ হাজার কোটি রুপি ছাড়িয়ে গেছে। এ ক্ষেত্রে আগামী ফেব্রুয়ারিকে সম্ভাব্য সময় হিসেবে উল্লেখ করেছেন কারা সূত্রগুলো।

নতুন এই কারাগারের সাথে মোটরওয়ে ও কাশ্মীর হাইওয়ের সংযোগ সড়ক উন্নয়নের জন্য জাতীয় মহাসড়ক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কারাগারের কাছাকাছি একটি বড় ইন্টারচেঞ্জ তৈরির পরিকল্পনাও চলমান রয়েছে। রাজধানীর আদালতগুলোর কাছাকাছি বন্দিদের রাখার এই উদ্যোগের ফলে বিচারপ্রক্রিয়া আরও সহজতর হবে এবং আদিয়ালা কারাগারের ওপর দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত চাপের বিষয়টিও কিছুটা লাঘব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। পাশাপাশি কারাগারের কাছে একটি বড় ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণের নকশা ও প্রকল্প প্রস্তাব তৈরির কাজও শুরু হয়েছে। সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।