আইজিপির ক্রসফায়ার মন্তব্যে তীব্র নিন্দা হাসনাত আব্দুল্লাহর


  প্রকাশিত হয়েছেঃ   ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ৫:২২ পিএম

আইজিপির ‘অনুমতি পেলে ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত সাম্প্রতিক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির শীর্ষ নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি সরকারের কাছে এই বক্তব্যের বিষয়ে কঠোর জবাবদিহি দাবি করেছেন। হাসনাতের অভিযোগ, পুলিশ বাহিনীকে পুনরায় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও ক্রসফায়ারের পথে ঠেলে দিয়ে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের মতো পুরো বাহিনীকে কলঙ্কিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বাজারে সিন্ডিকেট, গ্যাস সংকট এবং মোড়ে মোড়ে প্রকাশ্য চাঁদাবাজির তীব্র নিন্দা জানান তিনি।

রাজধানীতে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আইজিপি বলছেন সরকার অনুমতি দিলে ক্রসফায়ার দিয়ে মানুষ মারতে তাঁরা প্রস্তুত। যারা ক্রসফায়ার ও গুলি করে মানুষ মারার হুমকি দেয়, তারা ডিবির হারুন আর বেনজীরের উত্তরসূরি। এমন আপত্তিকর মন্তব্যের পর কোনো সভ্য দেশে ওই আইজিপি নিজ পদে বহাল থাকতে পারতেন না।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর সাধারণ পুলিশ সদস্যরা যখন মনোবল ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছেন, তখন কতিপয় কর্মকর্তার এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ পুরো বাহিনীর জন্য দুর্নাম বয়ে আনছে। সরকার যদি এ বিষয়ে দ্রুত স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না নেয়, তবে ধরে নেওয়া হবে যে তারা আবারও গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অন্ধকার পথে হাঁটছে।

সমাবেশ থেকে হাসনাত মোংলার মিরাজের সন্ধান দাবি করেন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে কোস্টগার্ডের দ্বারা গুমের শিকার ব্যক্তিদের অবিলম্বে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে হয়রানিমূলকভাবে আটক নারীদের দ্রুত মুক্তির দাবিও তোলেন তিনি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও সিন্ডিকেটের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, মুগদাবাসীরা এখন গ্যাস সংকটের কারণে রান্না করতে হিমশিম খাচ্ছেন। বাজারে ১৮০০ টাকার গ্যাস সিলিন্ডার সাধারণ মানুষকে ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকায় কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা সরকারের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় চলছে বলে তিনি দাবি করেন।

সরকারের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতির কড়া সমালোচনা করে ব্যঙ্গাত্মক সুরে হাসনাত বলেন, সরকার ১৮ মাসে দেড় কোটি কর্মসংস্থানের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তাদের তথ্য অনুযায়ী তারা ইতিমধ্যে এক কোটি কর্মসংস্থান নিশ্চিত করে ফেলেছে। তবে সেই কর্মসংস্থান হলো মোড়ে মোড়ে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে নিজেদের অধিকার আদায়ে বাধ্য হবে।