দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সংকটে সরকার: অলি আহমেদ


  প্রকাশিত হয়েছেঃ   ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১:৫৮ পিএম

বর্তমান সরকারের শাসনামলে দেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ কার্যত বন্ধের পথে বলে মন্তব্য করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ। রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে পারবে।

অলি আহমেদ বলেন, সরকার ক্ষমতায় আসার আগে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিলেও বর্তমানে পরিস্থিতি উল্টো। বিনিয়োগ না আসায় নতুন কর্মসংস্থান তো দূরের কথা, উল্টো প্রায় ৮০ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। অনেক শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সামগ্রিক অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রায় ৮০ হাজার মানুষের চাকরি চলে গেছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশে এখন এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে মানুষ রাতে নিরাপদে ঘুমাতে পারে না বা রাস্তায় চলাচল করতে ভয় পায়। জননিরাপত্তা নিয়ে জনমনে গভীর সংশয় ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এছাড়া বিচারব্যবস্থা নিয়ে আক্ষেপ করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাচ্ছে না। তিনি নিজের ছেলের একটি মামলার উদাহরণ টেনে বলেন, প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বিচার পেতে এক বছর ধরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে, যা হতাশাজনক। পুরোনো কর্মীদেরও ছাঁটাই করা হচ্ছে।’। অথচ প্রয়োজনীয় যুক্তি ও কাগজপত্র যাচাই করে দ্রুত সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব।’।

ব্যাংকিং খাতের সংকটের কথা উল্লেখ করে এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, অনেক ব্যাংক এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম। তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হোক। তবে যাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই, সেই মালিকদের ব্যাংক পরিচালনার সুযোগ দিলে কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে গতি ফিরতে পারে। পরিশেষে তিনি বলেন, জুলাই সনদ ও সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়নের ঘোষণা দিলে লংমার্চ বা রোডমার্চের মতো কর্মসূচির প্রয়োজন হবে না। এই সংস্কারে বিলম্ব করলে সরকারকে বড় বিপদে পড়তে হতে পারে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।