ভোজ্য তেলের দাম লিটারে আরও ১৪ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব


  প্রকাশিত হয়েছেঃ   ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪:২১ পিএম

দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের দাম আবারও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে তেল উৎপাদন ও বিপণনকারী কোম্পানিগুলো। বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের কাছে চিঠি দিয়ে বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৪ টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে। মূলত রোজার মাসের আগেই এই বাড়তি দাম কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলোর। নতুন করে দাম বাড়ানোর আবেদন জানিয়ে ১৩ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের কাছে চিঠি দিয়েছে ভোজ্যতেল উৎপাদন ও পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।

প্রস্তাবিত নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে ২০৪ টাকা দরে বিক্রিত প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ২১৮ টাকা করার কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া ৫ লিটারের বোতল ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৭০ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ১৮৫ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১৯৯ টাকা করার আবেদন জানানো হয়েছে। অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এই সমন্বয় জরুরি হয়ে পড়েছে। চিঠিতে ২৫ অক্টোবর থেকে নতুন মূল্য কার্যকর করার ঘোষণা দেওয়া হলেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত এতে সম্মতি দেয়নি। এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর প্রতি লিটারে ৫ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছিল, যেখানে আগের মূল্য ছিল ১৯৯ টাকা। অর্থাৎ দুই মাসের ব্যবধানে আবারও দাম বৃদ্ধির চাপ তৈরি হয়েছে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর।

ভোজ্যতেলের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন জানান, দেশের ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ তেল বাজার ৪ থেকে ৫টি বড় কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বাকি ১০-১৫ শতাংশ সরবরাহ করে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো। তিনি অভিযোগ করেন, বড় কোম্পানিগুলো চাহিদামতো তেল আমদানি ও পরিশোধ করার পরও বাড়তি মুনাফার লোভে ডিলারদের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। প্রতি বছরই তারা সরকারকে চাপে ফেলে এভাবে দাম বাড়িয়ে নেয়। এছাড়া বাজারে অনেক সময় নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও ৫-১০ টাকা বেশিতে তেল বিক্রি হয়। এমন পরিস্থিতিতে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারকে আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ওইসব বড় কোম্পানি দেশের চাহিদামতো তেল আমদানির পর রিফাইন করে বাজারে ছাড়ে।