শিবির সভাপতি |: ২৮ অক্টোবরের মামলা পুনরুজ্জীবিত করতে হবে


  প্রকাশিত হয়েছেঃ   ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৩৭ পিএম

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনায় দায়ের করা যে সকল মামলা তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার বিভিন্ন উপায়ে নিষ্ক্রিয় বা গায়েব করে দিয়েছিল, তা দ্রুত পুনরুজ্জীবিত করে বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম। বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে “২৮ অক্টোবর ২০০৬: আওয়ামী নৃশংসতা ও ফ্যাসিবাদের উত্থান” শীর্ষক এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই দাবি উত্থাপন করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ২৮ অক্টোবরের সেই রক্তদানের মধ্য দিয়ে শহীদরা দেশকে যে অভিমুখে নিতে চেয়েছিলেন, আওয়ামী লীগ তা হতে দেয়নি। বরং তারা দেশে ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটিয়েছিল। তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই ফ্যাসিবাদের কবর রচনা করা হয়েছে এবং জাতি এখন নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে। আঠারো কোটি মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইনসাফপূর্ণ রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে এই পথচলা অব্যাহত রাখবে, যা হবে ২৮ অক্টোবরের বিজয়ের প্রকৃত তাৎপর্য। বাংলার ১৮ কোটি মানুষ সংগ্রাম করে ইনসাফপূর্ণ রাষ্ট্রের পথে বাংলাদেশকে আবার এগিয়ে নেবে। এটাই আমরা মনে করি ২৮ অক্টোবরের বিজয়ের তাৎপর্য।”। তারা শহীদ হয়েছেন, তবু দায়িত্বশীলদের গায়ে আঁচড় লাগতে দেননি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার স্মৃতিচারণ করে বলেন, সেদিন লগি-বৈঠা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়েছিল। পল্টন মোড়ে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা মানবঢাল তৈরি করে আক্রমণ প্রতিহত করেন এবং নেতাদের নিরাপদে সরিয়ে নেন। তাদের এই আত্মত্যাগ প্রমাণ করে, যারা আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জীবন বাজি রাখে, তারা কোনো শক্তির সামনেই মাথা নত করে না। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের কোনো স্থান নেই এবং গণতন্ত্রের সাথে দলটির কোনো সম্পর্ক নেই। ক্ষমতা থেকে চ্যুত হলে তারা গণতন্ত্রের কথা বলে, অথচ ক্ষমতায় থাকাকালীন গণতন্ত্রের টুঁটি চেপে ধরেছে। কেউ চেষ্টা করেও আমাদের এই পথ থেকে সরাতে পারবে না। ২৮ অক্টোবরের স্মৃতিচারণ করে তিনি আরও বলেন, “সেদিন আওয়ামী লীগসহ ১৪-দলীয় জোটের সন্ত্রাসীরা বন্দুক, লগি-বৈঠা নিয়ে মুহুর্মুহু হামলা চালাচ্ছিল। তিনি আরও বলেন, “শেখ হাসিনাও পল্টন ট্র্যাজেডি ঘটিয়ে সেনাশাসন আনেন। অথচ বিএনপির ক্ষেত্রে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

তিনি দাবি করেন, তৎকালীন সেনাশাসনের সাথে আঁতাত করে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ পিলখানা হত্যাকাণ্ড, জামায়াত নেতাদের বিচারিক হত্যাকাণ্ড ও শাপলা চত্বরের ঘটনার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে দেশে বর্বরতা কায়েম রেখেছিল। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ২৮ অক্টোবরের পৈশাচিকতায় বিশ্ববাসী মানুষ হত্যার বীভৎস রূপ দেখেছিল। সেদিন কেবল হত্যাই করা হয়নি, বরং মৃত্যু নিশ্চিত করতে লাশের ওপর নৃত্য করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। মঈনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনের সঙ্গে আঁতাত করে সাজানো-পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে পিলখানা হত্যাকাণ্ড, তথাকথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের নামে জামায়াতের দেশপ্রেমিক নেতাদের বিচারিক হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডসহ ১৫টি বছর নিষ্ঠুরতা ও বর্বরতার মধ্য দিয়ে।

তিনি আরও বলেন, বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল, প্রতীক নিষিদ্ধ ও কার্যালয় বন্ধের পাশাপাশি নেতাদের রাজনৈতিক কার্যক্রমে বাধা দিয়েছিল। জামায়াতকে নিশ্চিহ্ন করতে আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাতের যে অপপ্রচার চালানো হয়েছে, তা ভিত্তিহীন। তিনি সতর্ক করে বলেন, আওয়ামী লীগ যে পরিণতির শিকার হয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে, যারা একই পথে হাঁটবে তাদের পরিণতিও অভিন্ন হবে।

সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, শহীদদের রক্ত বৃথা যায় না, সেই রক্তের পথ ধরেই এ দেশে ইসলামের বিজয় নিশ্চিত হবে। ইতোমধ্যে রাজধানীতে তার ঢেউ দেখতে পাচ্ছি।

রাজধানীর পরিবেশেই তার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে এবং অচিরেই এ দেশে ন্যায় ও ইনসাফের বাংলাদেশ কায়েম হবে। ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম তার বক্তব্যে বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ভারতীয় আধিপত্যবাদী শক্তি ও সন্ত্রাসীদের লগি-বৈঠার হামলায় গণতন্ত্রের সূর্য অস্তমিত হয়েছিল। এরপর পিলখানা থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণহত্যা পর্যন্ত দীর্ঘ ১৬ বছর হাসিনার ফ্যাসিবাদ দেশের ওপর জগদ্দল পাথরের মতো চেপে ছিল, আর এ কাজে বামপন্থীরা সহায়তা করেছে। এরপর একে একে পিলখানা, শাপলা চত্বর ও ২০২৪ সালের গণহত্যাসহ বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম-খুন ও আয়নাঘরের মতো ঘটনার মধ্য দিয়ে ১৬ বছর বাংলার জমিনে হাসিনার ফ্যাসিবাদ জারি ছিল। হাসিনার ফ্যাসিবাদকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এ দেশের বামপন্থীরা সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে।”।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ২৮ অক্টোবরের শহীদ হাফেজ গোলাম কিবরিয়া শিপনের বাবা তাজুল ইসলাম। যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি সাইফুল ইসলাম সাইম, মহানগর পূর্ব সভাপতি ইমদাদুল হক এবং মহানগর দক্ষিণ সভাপতি হাফেজ দেলোয়ার হোসেন। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিগবাতুল্লাহ, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা।