জটিল সমীকরণে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের পথ


  প্রকাশিত হয়েছেঃ   ২ নভেম্বর ২০২৬, ৮:৩৬ এএম

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ২০২৫-২৭ চক্রের পয়েন্ট তালিকার হিসাব এখন বেশ জটিল। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশ নিজেদের ঘরের মাঠে সিরিজ হেরে ফেলায় ফাইনালের সমীকরণ বদলে গেছে। আইসিসির হালনাগাদকৃত তথ্য অনুযায়ী, পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে আছে নিউজিল্যান্ড। কিউইরা ৭২.২২ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের এক নম্বরে অবস্থান করছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ৭১.৪৩ শতাংশ পয়েন্টধারী দক্ষিণ আফ্রিকা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের ফলে প্রোটিয়াদের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে। অন্যদিকে ৬৯.২৩ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে অস্ট্রেলিয়া। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই জমজমাট হয়ে উঠছে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের হিসাব; একইসঙ্গে জমে উঠছে সমীকরণের খেলা। সে খেলায় বড় ধাক্কা খেয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশ। অর্থাৎ, সব ম্যাচ জিততে পারলে ফাইনালের দৌড়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করা সম্ভব। অস্ট্রেলিয়াকে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

তালিকায় চতুর্থ স্থানে আছে ভারত, যাদের পয়েন্ট ৫১.৫২ শতাংশ। বর্তমানে ৪৭.৬২ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ রয়েছে পঞ্চম স্থানে। ঢাকা টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৮ উইকেটে হেরে যাওয়ায় বাংলাদেশের অবস্থানে এই অবনতি ঘটে। তবে শ্রীলঙ্কা ৩৩.৩৩ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম স্থানে থাকলেও, তাদের হাতে এখনো ছয়টি টেস্ট ম্যাচ বাকি থাকায় গাণিতিক সম্ভাবনা টিকে রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য পরিস্থিতি বেশ নাজুক। ঢাকা টেস্ট শেষে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত নিজেও স্বীকার করেছেন যে, ফাইনালের দৌড় এখন দলের জন্য বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারো হাতে আছে কিছুটা স্বস্তি, কারো সামনে কঠিন পরীক্ষা, আর বাংলাদেশের জন্য সমীকরণটা প্রায় নিখুঁত সাফল্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ১১ টেস্টে ৫১.৫২ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে চারে থাকা ভারতের সামনে সাতটি ম্যাচ। স্বপ্ন এখনো শেষ হয়নি, তবে আর একটা ম্যাচে হার মানেই ফাইনালের পথ থেকে প্রায় ছিটকে যাওয়া।

বাংলাদেশ দলের সামনে এখন আর পাঁচটি টেস্ট ম্যাচ রয়েছে। এর মধ্যে একটি ম্যাচ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, দুটি দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে এবং দুটি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে। বর্তমান ৪০ পয়েন্টের সঙ্গে অবশিষ্ট পাঁচ ম্যাচে পূর্ণ ৬০ পয়েন্ট অর্জন করতে পারলে বাংলাদেশের মোট পয়েন্ট ১০০-এ পৌঁছাবে। সেক্ষেত্রে ১২ টেস্ট শেষে তাদের পয়েন্টের শতকরা হার দাঁড়াবে ৬৯.৪৪ শতাংশ। তবে একটি হার বা ড্রয়ের ফলে এই সমীকরণ অনেক বেশি জটিল হয়ে পড়বে। কিন্তু একটি হার কিংবা ড্রও সে হিসাবকে অনেক কঠিন করে তুলবে।

শীর্ষ দুইয়ে জায়গা করে নিতে নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা—এই ছয়টি দল লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। শীর্ষে থাকা নিউজিল্যান্ডের সামনে আটটি ম্যাচ রয়েছে, যেখানে ভারতের বিপক্ষে দুটি, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুটি ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চারটি টেস্ট অন্তর্ভুক্ত। তাদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আটটি ম্যাচ বাকি আছে ভারতের, যার মধ্যে পাঁচটি ঘরের মাঠে এবং নিউজিল্যান্ডের মাটিতে দুটি টেস্ট। ভারত যদি বড় সাফল্য দেখাতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের ফাইনাল খেলার পথ অনেকটা রুদ্ধ হয়ে যাবে।

২০২৭ সালের ৯ থেকে ১৩ জুন লন্ডনের ওভালে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই চ্যাম্পিয়নশিপের নিয়মানুযায়ী, একটি টেস্ট জয় করলে ১২ পয়েন্ট, ড্র করলে ৪ পয়েন্ট এবং টাই করলে ৬ পয়েন্ট পাওয়া যায়। পুরো দুই বছরের লিগ পর্ব শেষে পয়েন্টের শতকরা হারে শীর্ষ দুই দল শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে লড়াই করবে। ছয় ম্যাচে চার জয় পাওয়া দলটি অবস্থান ধরে রাখতে চাইবে ধারাবাহিকতা দিয়ে। এখানে শুধু জয় নয়, ড্র ও টাইয়ের পয়েন্টও গুরুত্বপূর্ণ।

দক্ষিণ আফ্রিকার বর্তমান অবস্থান বেশ সুবিধাজনক।

বাকি সাত ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ রয়েছে তাদের। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার সামনেও ছয়টি ম্যাচ রয়েছে পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। নিজেদের সব ম্যাচ জিতলে লঙ্কানরা ৬৬.৬৭ শতাংশ পয়েন্ট অর্জন করতে পারে। তবে মাঠের কঠিন বাস্তবতায় বাংলাদেশের সামনে এখন দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ—নিজেদের সব ম্যাচ জেতার পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর পয়েন্ট হারানোর দিকে তাকিয়ে থাকা। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জয় পাওয়ার সক্ষমতা প্রমাণ করলেও, ফাইনালে পৌঁছাতে হলে বাংলাদেশকে এখন প্রতিটি ম্যাচে নিখুঁত পারফরম্যান্স দেখাতে হবে। প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর ফলও তখন বাংলাদেশের পক্ষে আসতে হবে। দুই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এই নয়, বরং মোট আট ম্যাচের ফলই তাদের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে। তবে প্রতিপক্ষের শক্তি এবং বাকি ম্যাচের সংখ্যা বিবেচনায় কাজটি সহজ নয়।