আসামে ঘরবাড়ি উচ্ছেদ ও মসজিদ ধ্বংসের ঘটনায় ওলামা অ্যালায়েন্সের


  প্রকাশিত হয়েছেঃ   ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬:৩৮ পিএম

ভারতের আসাম রাজ্যে অন্তত ১ হাজার ১০০টির বেশি বাঙালি মুসলিম পরিবারকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ এবং ১০টিরও অধিক মসজিদ ভেঙে ফেলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স। ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) গণমাধ্যমে প্রেরিত যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির পক্ষে এ প্রতিবাদ জানানো হয়। যৌথ বার্তাটি প্রদান করেন সংগঠনের আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি আযহারী এবং সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খান।

বিবৃতিতে আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি আযহারী উল্লেখ করেন, চরমপন্থী হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক তৎপরতার ফলে ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ও ধর্মচর্চার স্বাধীনতা ক্রমাগত হুমকির মুখে পড়ছে। ১৯৯২ সালের বাবরি মসজিদ ভাঙার নজির স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ওই ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিনষ্ট ও ধর্মীয় হানাহানির একটি করুণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। আসামের সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযান ও উপাসনালয় গুঁড়িয়ে দেওয়াকে সেই ঐতিহাসিক ঘটনারই এক ধারাবাহিক রূপ বলে তিনি মন্তব্য করেন। ১৯৯২ সালে ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা উপমহাদেশের ইতিহাসে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনের একটি দৃষ্টান্ত। সংগঠনটি ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, আসামে ঘরবাড়ি উচ্ছেদ ও মসজিদ ধ্বংসের পেছনে প্রকৃত উদ্দেশ্য উদ্ঘাটন করতে হবে।

অন্যদিকে সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খান ভারতের প্রশাসনিক ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, সরকারি খাস ও বনভূমির জায়গা দখলমুক্ত করার অজুহাতে এই অভিযান চালানো হলেও যুগ যুগ ধরে সেখানে বসবাসকারী সাধারণ পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের বিষয়টিকে পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে। উচ্ছেদের পাশাপাশি যেসব মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়েছে, তার মূল রহস্য উন্মোচনে একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান তিনি। সংগঠনটির সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খান বলেন, ভারত সরকার এসব উচ্ছেদকে সরকারি ও বন বিভাগের জমি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের বসবাসের ইতিহাস এবং তাদের পুনর্বাসনের বিষয়টি যথ।

ওলামা অ্যালায়েন্সের শীর্ষ নেতারা আরও জোর দিয়ে বলেন, কেবল ধর্মীয় আস্থার কারণে কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে নিশানা বানানো এবং তাদের জীবন-জীবিকাকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেওয়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের চরম লঙ্ঘন। নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ভারতীয় মুসলিমদের সাংবিধানিক সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা বিধানে ক্রমাগত ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে বলে বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়। এ অবস্থায় আসামের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখতে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘসহ বৈশ্বিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে দ্রুত এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি আসামের পরিস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।