নিরাপত্তার কড়াকড়িতে সাঈদীর মামলার বাদীর দাফন সম্পন্ন

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী এবং রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান সাক্ষী মানিক পশারী শনিবার সকাল ১০টায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর পর তার মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে নিয়ে আসলে স্থানীয় লোকজন ও জামায়াত কর্মীদের তোপের মুখে পড়তে হয় স্বজনদের। এই উত্তেজনার মুখে শনিবার রাতে পুলিশ হেফাজতে থাকা মরদেহটি শেষ পর্যন্ত রোববার গভীর রাতে দাফন করা হয়। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীর লাশ তোপের মুখে ১৭ ঘণ্টা পর গভীর রাতে পরিবারের সদস্যদের খোড়া কবরে দাফন করা হয়েছে।
মানিক পশারীর মরদেহ প্রথমে জেলা পুলিশ লাইনসে রাখা হয়, যেখানে বিকাল ৫টার দিকে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রাত ১টার দিকে স্থানীয় জামায়াত নেতাদের সহায়তায় তার মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতেই রাত ২টার দিকে দাফন কাজ শেষ হয়। এই প্রক্রিয়ায় সদর থানা পুলিশ সার্বক্ষণিক সহায়তা নিশ্চিত করেছে।
নিহত মানিক পশারীর বোন জানান, মরদেহ আনার পর দাফনের স্থান নিয়ে দফায় দফায় বাধার সৃষ্টি হয়েছিল। স্থানীয়দের বাধার মুখে একবার খনন করা কবরও ভরাট করা হয়েছিল। পরে পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে পুলিশের পাহারায় পুনরায় কবর খুঁড়ে দাফন সম্পন্ন করতে হয়েছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যরা নিজেরাই মাটি দেওয়ার কাজটি সম্পন্ন করেছেন বলে জানান তিনি। মানিকের বোন বলেন, ‘আমার ভাইরে টুঙ্গিপাড়া দিয়া পিরোজপুর আনার পর ওখানে ধস্তাধস্তি হইছে। একবার মোরা কবর খুঁড়ছি সেই কবর লোকজনে আবার ভরাট করে ফেলছে।
জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক দাবি করেন, মানিক পশারীর দাফনে দলের পক্ষ থেকে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, জামায়াত লাশের রাজনীতি করে না। দাফন প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্ন রাখতে পুলিশকে পূর্ণ সহায়তা করা হয়েছে। এদিকে সদর থানার ওসি মো. শরিফুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন, পুরো প্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ৮৭ বছর বয়সী মানিক পশারী পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর নিরাপত্তার খাতিরে তিনি টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাইয়ের আশ্রয়ে চলে যান। সেখানে দুই মাস অসুস্থ থাকার পর তার মৃত্যু হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দেওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই তিনি আলোচিত ছিলেন। এ সময় কিছু এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।