রাষ্ট্রের সর্বস্তরে শরীয়াহ বাস্তবায়ন অপরিহার্য: মুফতি ফয়জুল করীম


  প্রকাশিত হয়েছেঃ   ১ নভেম্বর ২০২৬, ৪:৩৪ পিএম

রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে দলটির কেন্দ্রঘোষিত ‘দাওয়াতি মাস’ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। রোববার দুপুরে আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, দেশে ন্যায়বিচার, সুশাসন এবং মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে ইসলামী শরীয়াহর আদর্শ বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি। প্রচলিত রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে মন্তব্য করে তিনি ব্যক্তি, পরিবার এবং রাষ্ট্রীয় জীবনে ইসলামের অনুশাসন অনুসরণের ওপর জোর দেন। তিনি আরও বলেন, দেশ ও মানবতার সার্বিক কল্যাণে ইসলামী আদর্শের পক্ষে গণজাগরণ সৃষ্টি করা জরুরি। শরীয়াহ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে যোগ দেওয়ার জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

দাওয়াতি মাসের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়; বরং এর মাধ্যমে মানুষের কাছে ইসলামের সঠিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া, মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা এবং একটি কল্যাণরাষ্ট্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে। এই কার্যক্রম সফল করতে প্রতিটি দায়িত্বশীল নেতা ও কর্মীকে ব্যক্তিগত যোগাযোগ এবং সাংগঠনিক তৎপরতা আরও বাড়ানোর নির্দেশনা দেন তিনি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির উপস্থিতিতে নতুন করে শতাধিক ব্যক্তি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে যোগদান করেন। নবাগতদের স্বাগত জানিয়ে তিনি তাদের নিষ্ঠার সাথে দলের কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহ-সভাপতি আব্দুল আউয়াল মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন দলের সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমাদ আবদুল কাইয়ুম ও কে এম আতিকুর রহমান। এছাড়া কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আরিফুল ইসলাম এবং কেন্দ্রীয় সদস্য ও মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা কে এম শরীয়াতুল্লাহসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভাপতির বক্তব্যে আব্দুল আউয়াল মজুমদার দলের কর্মসূচি তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে প্রতিটি ওয়ার্ড ও থানার দায়িত্বশীলদের কঠোর পরিশ্রম ও আন্তরিকতার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে অন্যান্য নেতারাও দাওয়াতি মাসের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং রাজধানীর প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় ইসলামের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।